জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ব্যালেস্টিক মিসাইল হামলায় কয়েকটা বিষয় পরিষ্কার হয়ে গেছে একদম খোলাখুলি ভাবে।
৬-৮টি এফ ৩৫ এ্যাডভান্স ফাইটার জেট ধ্বংস হওয়ার মধ্যে একটা গভীর তাৎপর্য আছে। আমেরিকার পক্ষে এ ক্ষতির বিপরীতে কয়েক ডজন নতুন জেট ফাইটার বানিয়ে ফেলা খুবই সম্ভব। কিন্তু হিসেবটা অন্য কোথাও।
যে ওয়ার মেশিনকে পৃথিবীব্যাপি সবচাইতে হাই টেক হিসেবে প্রচার করে অস্ত্রবাজারে বিশাল আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল তা স্রেফ ধুলিস্মাৎ হয়ে গেছে।
অপরদিকে মধ্যপ্রাচ্যের ঘাঁটি থেকে আর ডমিনেটিং কোন রোল প্লে করার সুযোগ অবশিষ্ট না থাকলে আমেরিকার বৈশ্বিক হেজিমনিও গায়েব হয়ে যাবে।
আরেকটি তথ্য এখানে পিলে চমকে দিয়েছে।
জর্ডানের উচ্চ পর্যায়ের বুদ্ধিজীবি, একাডেমিশিয়ান, মিলিটারী অফিশিয়াল ও বেসামরিক আমলাদের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ ইরানকে ইন্টেলিজেন্স ও আইডিওলজিক্যাল সমর্থন দিয়ে ব্যপারটার মোড় সম্পূর্ণ আনএক্সপেক্টেড একটা দিকে ঘুরিয়ে দিয়েছে।
ফলাফল- আমেরিকা এখন জর্ডানে(ই-সরা-য়েলের ঘরের পাশে)ও এখন নিরাপদ নয়।
একটা ব্যপার খেয়াল করলে দেখবেন,
চুক্তিভঙ্গ পরবর্তী ইরানী একশনের চরিত্র একটু বদলেছে- হামলার পরিসর ছোট কিন্তু প্রিসাইজড হয়েছে। মিসাইলের সংখ্যা কমেছে, ধ্বংসের মাত্রা বেড়েছে। একিউরেসি উন্নত হয়েছে।
এখন শোনা যাচ্ছে হাইব্রিড মিসাইল ডেভেলপের কথা।
অর্থাৎ ভিন্ন ভিন্ন ক্যাটাগরীর মিসাইল বুস্টার ও ওয়ারহেড বদলাবদলি করে ব্যবহার করে আক্রমণের কার্যকারিতা বাড়াবার প্রক্রিয়া চলছে।
ইরানি পাবলিসিটি মেধার কারণে ইতোমধ্যেই আমেরিকা কূটনৈতিকভাবে উদাম হয়ে গেছে।
সর্বশেষ বিবৃতিতে আই আর জি সি জানিয়েছে-ইরানের পাওয়ার ইনফ্রাস্ট্রাকচারে আঘাত আসলে নেক্সট ফেজে ই-সরা-য়েলের পাওয়ার সিস্টেম টোটালি ড্যামেজ করে দেয়া হবে।
সুতরাং পরিস্থিতি এখনো বহুলাংশে ইরানের নিয়ন্ত্রণে।
[ছবি-আনাদুলু’র সৌজন্যে]


