বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়াবারকাতুহু।
প্রিয় সাথীবৃন্দ, আশা করি আপনারা সবাই আল্লাহর মহান দয়া এবং কৃপায় ভাল আছেন সুস্থ আছেন আমিও আপনাদের দোয়া এবং মহান আল্লাহতালার অশেষ মেহেরবানীতে ভালো আছি সুস্থ আছি।
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য পে-স্কেল শুধু বেতন বাড়ানোর একটি বিষয় নয়; এটি তাঁদের জীবনযাত্রার মান, সামাজিক মর্যাদা, কর্মপ্রেরণা এবং পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। বাংলাদেশে সর্বশেষ জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ সালে কার্যকর হয়েছিল। এরপর প্রায় ১১ বছর ধরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একই বেতন কাঠামোর মধ্যে আছেন। এ সময়ে দ্রব্যমূল্য, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা, যাতায়াতসহ প্রায় সব ধরনের জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে নতুন পে-স্কেলের দাবি দিন দিন আরও জোরালো হয়েছে।
২০২৬ সালে বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে। সরকার বাজেট বক্তৃতায় ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছে। জাতীয় বেতন কমিশন সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করেছিল। কিন্তু ঘোষণা থাকার পরও গেজেট প্রকাশ, বাস্তবায়নের ধরন এবং কোন গ্রেডে কতটা বৃদ্ধি হবে—এসব বিষয়ে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়েছে। তাই সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে, সরকার কেন পে-স্কেল বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে?
গড়িমসির প্রধান কারণ অর্থনৈতিক চাপ
নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের সবচেয়ে বড় বাধা হলো সরকারের আর্থিক সক্ষমতা। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর অর্থ শুধু মূল বেতন বৃদ্ধির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এর সঙ্গে বাড়ে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা, উৎসব ভাতা, অবসরকালীন সুবিধা, পেনশনসহ বিভিন্ন ব্যয়। ফলে একবার বেতন কাঠামো বড় আকারে বাড়ানো হলে সরকারের রাজস্ব ব্যয়ের ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ পড়ে।
বর্তমানে বিপুলসংখ্যক সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীর বেতন-পেনশন বাবদ সরকারের বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হয়। নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে সেই ব্যয় আরও বাড়বে। তাই সরকারকে একদিকে কর্মচারীদের ন্যায্য দাবি বিবেচনা করতে হচ্ছে, অন্যদিকে রাষ্ট্রের সামগ্রিক অর্থনৈতিক সক্ষমতাও দেখতে হচ্ছে।

