Serey is utilizing Blockchain technology

তেলবাজি, চাটুকারিতা অযথা সামনে প্রশংসা করা জঘন্যতম অপরাধ

A
alim236



বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

আসছালামুআলায়কুম ওয়া রহমাতুল্লাহ ওয়া বারাকাতুহু


প্রিয় সাথী বৃন্দ,

আজকে আমি আপনাদের সাথে তেলবাজি, চাটুকারিতা, মিথ্যা এবং সামনে প্রশংসা করা নিয়ে কিছু কথা শেয়ার করবো ইনশাল্লাহ।


তেলবাজি, চাটুকারিতা অযথা সামনে প্রশংসাকারী এই কাজগুলো ইসলাম ধর্ম একেবারে নিষিদ্ধ। চাটুকারিতা একটা নিন্দনীয় জঘন্য অপরাধ। যে অপরাধের কারণে আমাদের পরিবার, আমাদের সমাজ, আমাদের রাষ্ট্র আজ অধঃপতনের সর্বনিম্ন স্তরে পৌছে গেছে। এমন কোন জায়গা নাই, যেখানে এই চাটুকারিঞ লোকের উপস্থিতি নেই।



চাটুকারিতার আবির্ভাবঃ এই তেলবাজি, চাটুকারিতা আজকে আমাদের পরিবার, সমাজ রাষ্ট্র, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন অফিস আদালতে, সম্প্রতিক সময় যে প্রাদুর্ভাব ঘটেছে তা নয়। এটি শুরু হয়েছে আদম হাওয়া সৃষ্টির কাল থেকেই। এখনো পৃথিবীতে আছে এবং ভবিষ্যতেও চাটুকারিতা,তেলবাজি শ্রেণীর লোকের উপস্থিতি থাকবেই। এরা আছে বলেই ভালো মানুষের মূল্যায়ন সহজে করা সম্ভব হয়।


তেলবাজি চাটুকারিতা করার উদ্দেশ্যঃ এই চাটুকারিতার উদ্দেশ্য হলো নিজের জায়গা, নিজের পদ, নিজের অবস্থান, বিভিন্ন পরিবেশে সেটা পরিবারের হোক, সমাজে হোক, কোন গোত্রে হোক, কোন অফিসে হোক, কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হোক, কোন মন্ত্রিসভায় হোক, ইত্যাদি স্থানে পাকাপোক্ত করার জন্য এবং নিজের অপকর্ম, নিজের জুলুম নির্যাতন, অর্থ আত্মসাৎ, বেশি সুবিধা ভোগ ইত্যাদি ঢাকার জন্য, আড়াল করার জন্য চালিয়ে যাওয়ার জন্য, নেতৃস্থানীয় বা প্রধানগণ বা সমাজপতি বা শাষকগনের কাছে গিয়ে চাটোকারিতা, অযথা প্রশংসা, তেলবাজি ,সত্য মিথ্যা, কথা বানিয়ে তাদের মনকে গলিয়ে পরিবেশ নিজের অনুকালে আনা। এই হলো চাটুকারিতার উদ্দেশ্য।



তেলবাজি চাটুকারিতার বাস্তব উদাহরণঃ পৃথিবী শুরু থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত, এমন কোন জায়গা নেই যেখানে চাটুকারিতা লোকের দেখা মেলে না। আদম (আঃ) এবং হাওয়া (আঃ) কে তৈরি করার পরে শয়তান সেখানে বিবি হাওয়া (আঃ) কে বিভিন্ন প্রশংসা, প্রলোভন, এবং চাটুকারিতা করে বিপথগামী করেছিল। এছাড়া ফেরাউনের মন্ত্রী হামান বিভিন্ন প্রকার চাটুকারিতা, তেলবাজির মাধ্যমে, সেই সময় ফেরাউনকে দিয়ে অনেক মানুষকে হত্যা, নির্যাতন, গুম, খুন করতে উৎসাহিত করেছিল এমনকি হযরত মুসা আলাইহিস সালামকে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছিল। হামান এখানে চাটুকারিতা করার উদ্দেশ্য হলো তার মন্ত্রিত্ব ঠিক রাখার জন্য এবং তার জায়গা পাকাপোক্ত করার জন্য।


বর্তমানে অনেক দেশের প্রধানগন বিশ্ব মোড়লদের কাছে চাটুকারিতার মাধ্যমে নিজেদের ক্ষোমতা ধরে রেখেছে। এ ছাড়া আরও হাজার হাজার উদাহরণ বর্তমানে পৃথিবীতে রয়েছে।


চাটুকারিতার প্রভাবঃ এই শ্রেণী মানুষের প্রভাব সর্বত্র বিরাজমান। এদের কারণে পরিবারে বাবা, একজনকে বঞ্চিত করে অন্যজনকে জমি লিখে দেয়। সমাজে বিভিন্ন প্রকার প্রভাব, অপকর্ম, দুর্নীতি এদের কারণে চলতেই থাকে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিস, আদালত, মন্ত্রিপরিষদ, শিল্প প্রতিষ্ঠান, আয় রোজগারের যত জায়গা আছে সব জায়গায় যারা অদক্ষ, যারা অপকর্ম, অর্থ আত্মসাৎ, বেশি শ্রদ্ধাভাজন, হওয়ার জন্য তারা সেই পরিবেশে বসদের সাথে কর্তা ব্যক্তিদের সাথে চাটুকারিতা নামক জঘন্য কাজ করতে শুরু করে দেয়।


এই চাটুকারিতার প্রভাবে সেখানকার পরিবেশ নষ্ট হয়, মানুষের কাজ করার মন মানসিকতা হারিয়ে ফেলে, একটা বাজে পরিবেশে সৃষ্টি হয়, সেখানকার কাজের পরিবেশ নষ্ট হয়ে যায়। এই শ্রেণীর লোককে কেউ পছন্দ করে না। সামনে মুখ বুঝে সহ্য করলেও অন্তরে তাদের প্রতি ঘৃণা জন্মে।



তাই আসুন আমরা চাটুকারিতা এই জঘন্য অপরাধ এর প্রতি ঘৃণা জানাই, ধিক্কার জানাই, এবং এর জঘন্য অপরাধ থেকে নিজেকে এবং নিজের আশেপাশে যারা আছে তাদেরকে এর ভয়াবহতা সম্পর্কে অবহিত করি। আজকে এ পর্যন্তই আল্লাহ হাফেজ

4092.059 SRY$0.00
Bengali Community

Comments