চিন্তা মানুষকে বুড়ো করে দেয়।

alim236

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়াবারকাতুহু।


প্রিয় সাথীবৃন্দ, আশা করি আপনারা সবাই আল্লাহর মহান দয়া এবং কৃপায় ভাল আছেন সুস্থ আছেন আমিও আপনাদের দোয়া এবং মহান আল্লাহতালার অশেষ মেহেরবানীতে ভালো আছি সুস্থ আছি।


মানুষের জীবনে চিন্তা একটি স্বাভাবিক বিষয়। চিন্তা ছাড়া মানুষ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করতে পারে না, ভুল থেকে শিক্ষা নিতে পারে না এবং জীবনের সমস্যার সমাধানও করতে পারে না। কিন্তু যখন চিন্তা সীমা অতিক্রম করে দুশ্চিন্তায় পরিণত হয়, তখন সেটিই মানুষের জীবনে বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। অতিরিক্ত চিন্তা মানুষের মনকে দুর্বল করে, শরীরকে ক্লান্ত করে এবং ধীরে ধীরে তার স্বাভাবিক প্রাণচাঞ্চল্য নষ্ট করে দেয়। তাই বলা হয়—“চিন্তা মানুষকে বুড়ো করে দেয়।”

বয়স বাড়লেই মানুষ বৃদ্ধ হয়—এ কথা পুরোপুরি সত্য নয়। অনেক মানুষ ষাট-সত্তর বছর বয়সেও হাসিখুশি, কর্মক্ষম ও প্রাণবন্ত থাকেন। আবার অনেক তরুণকে দেখা যায়, অল্প বয়সেই তারা হতাশ, ক্লান্ত ও বিষণ্ণ হয়ে পড়েছে। এর অন্যতম কারণ হলো অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা। মানুষের চেহারায় যেমন বয়সের ছাপ পড়ে, তেমনি অতিরিক্ত মানসিক চাপও মানুষের মধ্যে ক্লান্তির ছাপ সৃষ্টি করে।

চিন্তা ও দুশ্চিন্তার পার্থক্য

চিন্তা এবং দুশ্চিন্তা এক জিনিস নয়। কোনো সমস্যা নিয়ে বাস্তবসম্মতভাবে চিন্তা করে সমাধানের পথ খোঁজা ভালো। কিন্তু একই বিষয় নিয়ে বারবার ভাবা, “যদি এমন হয়?”, “যদি ব্যর্থ হই?”, “যদি বিপদ আসে?”—এভাবে ভবিষ্যতের আশঙ্কায় নিজেকে কষ্ট দেওয়াই দুশ্চিন্তা।

চিন্তা সমস্যার সমাধান খুঁজে দিতে পারে, কিন্তু দুশ্চিন্তা অনেক সময় সমস্যাকে আরও বড় করে তোলে। যে মানুষ একই বিষয় নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভাবতে থাকে, তার মন বিশ্রাম পায় না। ফলে শরীরও ধীরে ধীরে ক্লান্ত হয়ে পড়ে।

অতিরিক্ত চিন্তা শরীরের ওপর প্রভাব ফেলে

মানুষের মন ও শরীর পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। দীর্ঘদিন অতিরিক্ত মানসিক চাপ থাকলে ঘুমের সমস্যা, ক্লান্তি, মাথাব্যথা, মনোযোগ কমে যাওয়া এবং নানা ধরনের শারীরিক অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে চোখ-মুখে ক্লান্তির ছাপ পড়ে, কাজের প্রতি আগ্রহ কমে যায় এবং মানুষ নিজেকে বয়স্ক মনে করতে শুরু করে।

অতিরিক্ত দুশ্চিন্তার কারণে মানুষ অনেক সময় নিজের যত্ন নেওয়াও ভুলে যায়। ঠিকমতো খাওয়া হয় না, নিয়মিত ঘুম হয় না, শরীরচর্চা করা হয় না। ফলে শরীর দুর্বল হতে থাকে। এভাবেই মানসিক চাপ পরোক্ষভাবে মানুষের শারীরিক সুস্থতার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

অতীত নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা

অনেক মানুষ অতীতের ভুল নিয়ে সারাক্ষণ চিন্তা করেন। “আমি যদি তখন ওই কাজটি না করতাম!”, “আমি কেন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম?”—এ ধরনের প্রশ্ন বারবার মনে ঘুরতে থাকে। কিন্তু অতীত পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।

অতীত থেকে শিক্ষা নিতে হবে, কিন্তু অতীতের কাছে বন্দি হয়ে থাকা যাবে না। ভুল হয়ে গেলে নিজেকে সংশোধন করতে হবে এবং সামনে এগিয়ে যেতে হবে। কারণ যে মানুষ অতীতের দুঃখ আঁকড়ে ধরে থাকে, সে বর্তমানের আনন্দ থেকেও বঞ্চিত হয়।

ভবিষ্যৎ নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা

ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিকল্পনা করা ভালো, কিন্তু ভবিষ্যৎ নিয়ে অতিরিক্ত ভয় পাওয়া ভালো নয়। মানুষ ভবিষ্যতে কী ঘটবে তা পুরোপুরি জানে না। তাই অজানা বিষয় নিয়ে সারাক্ষণ দুশ্চিন্তা করলে বর্তমান জীবনটাই নষ্ট হয়ে যায়।

অনেক মানুষ আজকের খাবার খেতে খেতেই আগামী দিনের খাবার নিয়ে চিন্তা করেন। আজ সুস্থ থাকা অবস্থায় আগামী দিনের রোগ নিয়ে ভয় পান। সন্তান আজ পড়াশোনা করছে, তবু সে ভবিষ্যতে কী হবে তা নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করেন। এভাবে ভবিষ্যতের অজানা আশঙ্কা মানুষের বর্তমান শান্তি কেড়ে নেয়।

অর্থনৈতিক সমস্যা ও দুশ্চিন্তা

Comments